Posts

কষ্টের গল্প

"চিঠির শেষ লাইনটা" 💔📝 নাম ছিল ছেলেটার—তানভীর। গ্রামের ছেলে, চুপচাপ স্বভাবের। মেয়েটির নাম ছিল—সুমাইয়া। হাসিমাখা মুখ, স্বপ্নভরা চোখ। তাদের পরিচয় হয়েছিল কলেজে, লাইব্রেরির টেবিলে। একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকা, ধীরে ধীরে গল্প, তারপর বন্ধুত্ব। সুমাইয়া তানভীরকে বলত, “তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।” তানভীর স্বপ্ন দেখত—একদিন চাকরি হবে, পরিবার রাজি হবে, ওদের বিয়ে হবে। কিন্তু সময় কখনো মসৃণ চলে না। স্নাতক পরীক্ষার আগেই সুমাইয়ার বিয়ে ঠিক হয়ে যায় পরিবারের পছন্দে। সে কিছু বলতে পারেনি, শুধু চুপচাপ চলে যায় শহর থেকে। তানভীরের হাতে একটিই জিনিস ছিল—একটা চিঠি। সুমাইয়া লিখেছিল: > “তুমি জানো তো? ভালোবাসা সবসময় পাওয়ার হয় না। কিছু ভালোবাসা শুধু প্রার্থনায় বেঁচে থাকে। আমি চাই, তুমি যেন জীবনে সফল হও। হয়তো এই জীবনে না, কিন্তু পরের জীবনেও যদি দেখা হয়—আমি তোমার হবো। — সুমাইয়া।” চিঠির শেষ লাইনটায় ছিল একটা ফোঁটা জল। তানভীর জানে না, সেটা কলমের কালি, না ভালোবাসার অশ্রু। আজও সে চিঠিটা তার বুকপকেটে রাখে। কাউকে দেখায় না, শুধু মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে, “তুমি সুখে থাকো... সুমাইয়া।” ...

কষ্টের গল্প

একটি কষ্টের গল্প: "বাবার পুরনো জুতা" রাকিব ছিল গ্রামের এক গরিব ছেলেটি। তার বাবা একজন দিনমজুর ছিলেন। প্রতিদিন ভোরে উঠে কাজের খোঁজে বের হতেন। রোদ, বৃষ্টি, শীত—সবকিছুর মাঝেও তিনি কখনো কাজ বাদ দিতেন না, কারণ রাকিবের স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া করে বড় কিছু হওয়া। বাবা তার সব কষ্টের টাকা জমিয়ে ছেলেকে শহরের কলেজে পড়াতে পাঠিয়েছিলেন। একদিন রাকিবের কলেজে ফুটবল টুর্নামেন্ট হলো। সবার নতুন জুতা, নতুন ড্রেস। কিন্তু রাকিব এসেছিল বাবার পুরনো ছেঁড়া জুতা পরে। বন্ধুদের কেউ কেউ হেসে বলেছিল, — "এইটা দিয়ে খেলবি? নাকি জুতা মিউজিয়ামে দিবি?" রাকিব কিছু না বলে খেলে গিয়েছিল। সেদিন সে দলের সেরা খেলোয়াড় হয়। সবাই তাকে বাহবা দেয়, অথচ তার চোখে জল—কারণ ম্যাচ শেষে ফোনে জানানো হয়, — "তোর বাবা আর নেই… আজ সকালে স্ট্রোকে মারা গেছেন।" সেই পুরনো জুতাটা ছিল বাবার শেষ স্মৃতি। সেই কষ্ট নিয়ে রাকিব এখনো বাঁচে—সব পেয়েও যেন কিছুই পায়নি।

ভালোবাসার গল্প

 💔 শেষ চিঠি রাতে হালকা বৃষ্টি পড়ছিল। জানালার পাশে বসে রাফি চুপচাপ বসে ছিল, হাতে একটা চিঠি। সেই চিঠি তার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ—আয়শা লিখে রেখে গেছে। রাফি আর আয়শা ছেলেবেলার বন্ধু ছিল। একসাথে স্কুল, একসাথে কলেজ। কিন্তু জীবন তাদেরকে একসাথে রাখতে পারেনি। আয়শার পরিবার চেয়েছিল বিদেশে পাঠাতে, আর রাফি ছিল গরীব ঘরের ছেলে। আয়শা কিছু বলেনি, শুধু একদিন একটা চিঠি রেখে চলে গিয়েছিল— > " রাফি, আমি তোমাকে ভালোবাসি, কিন্তু জীবন সবসময় আমাদের ইচ্ছেমতো চলে না। হয়তো আবার দেখা হবে অন্য কোনো জীবনে, যেখানে সমাজের বাধা থাকবে না।" রাফি সেই চিঠি আজও আগলে রেখেছে। আয়শা চলে যাওয়ার পর আর কিছু লেখেনি, আর কখনো ফোন করেনি। আজ ৫ বছর পরও রাফি প্রতিদিন জানালার পাশে বসে, বৃষ্টির দিনে, সেই চিঠিটা পড়ে। আয়শার সাথে একটিবার দেখা হবে—এই আশা নিয়েই বেঁচে থাকে।